গাজায় আগের চেয়ে আরও বেড়ে গেছে ‘অপরাধী চক্র’ এবং ‘অপরাধ তৎপরতা’। এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণ সরবরাহ অনিরাপদ হয়ে পড়েছে গাজায় । ত্রাণবাহী গাড়িগুলো লুটপাটের শিকার হচ্ছে।
গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবির থেকে আল-জাজিরাকে এমন কথাই জানিয়েছেন, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লুইস ওয়াটারিজ।
তিনি বলেন, গাজায় অপরাধ তৎপরতা গত মে মাস থেকে এতটাই বেড়েছিল যে সে সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল মিশরের সঙ্গে দক্ষিণ গাজার রাফা সীমান্ত ক্রসিং। এরপর থেকে প্রতিটি দিনই নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
গাজায় দিন দিন কমেছে ত্রাণ সরবরাহ। এতে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা গাজার মানুষগুলো মরিয়া হয়ে পড়েছে। খুধার চাহিদা মেটাতে মরিয়া এই মানুষেরা বাধ্য হচ্ছে অপরাধ তৎপরতায় জড়িয়ে পড়তে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জাতিসংঘ সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) দক্ষিণপূর্ব গাজার ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত কেরেম শালোম সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে ত্রাণ পাঠানো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলেই জানালেন সংস্থার কর্মকর্তা লুইস।
তার কথায়, জাতিসংঘ ত্রাণ কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি এই সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে আমাদের কর্মীদের ত্রাণ সরবরাহের জন্য নিরপদ নয়। গত কয়েক সপ্তাহ এবং গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি কেবল খারাপ থেকে খারাপের দিকেই গেছে।
গত নভেম্বরেই গাজায় জাতিসংঘের পাঠানো খাদ্যপণ্য বোঝাই ১০৯টি লরিতে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে বলে জানিয়েছিল জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা। কেরেম শালম সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে ত্রাণের ট্রাকবহর পার হওয়ার সময় লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
৯৭টি লরি লুট হয়। ট্রাকের চালকদেরকেও বন্দুকের ভয় দেখিয়ে লরিতে থাকা ত্রাণ খালি করে দিতে বাধ্য করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা মুখোশপরা একদল মানুষকে গ্রেনেড ছুড়ে ত্রাণ বহরে হামলা চালাতে দেখার কথা জানান। লুটপাটের এমন ঘটনা বেড়ে যাওয়া কারণে কেরেম শালম দিয়ে ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে, জানালেন লুইস।